1. abusayedatnkh@gmail.com : Abu Sayed : Abu Sayed
  2. info@jtv.com.bd : TV :
বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২২, ০১:১৫ অপরাহ্ন

হাসপাতালে নবজাতক ফেলে পালালেন প্রবাসীর স্ত্রী

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল নবজাতককে সেবা দিচ্ছেন এক নার্স।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসবের পর নবজাতককে ফেলে পালিয়ে গেছেন এক মা। বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে নবজাতককে হাসপাতালের নার্সরা সেবা দিচ্ছেন।

হাসপাতালের সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুল হাসিব বলেন, দুধ কিনে দেওয়া হয়েছে। শিশুটির পোশাক থেকে শুরু করে সবকিছু দেওয়া হবে। তার চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি রাখা হচ্ছে না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সাতটার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক নারী আসেন। তিনি নিবন্ধন বইতে রিমি (২৬), স্বামী/বাবার নামের জায়গায় মোমিন এবং কবুরহাট, জগতি, কুষ্টিয়া লেখেন।

পেটের ব্যথার কথা জানালে দায়িত্বরত চিকিৎসক মাহফুজুর রহমান বুঝতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তির জন্য বলা হলে ওই নারী অস্বীকৃতি জানান। পরে তাকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সকাল পৌনে আটটার দিকে পেটের ব্যথা তীব্র হলে তাকে গাইনি বিভাগের অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে স্বাভাবিকভাবে ওই নারী ছেলেসন্তান জন্ম দেন। আধা ঘণ্টা পর ওই নারীকে ওয়ার্ডে দেওয়া হয়। সেখান থেকে কৌশলে ওই নারী পালিয়ে যান।

পরে সংবাদ পেয়ে প্রবাসী মোমিনের পরিবারের সদস্য, ইউপি সদস্যসহ সমাজের প্রধানবর্গ হাসপাতালে এসে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ওই শিশুটি প্রবাসী মোমিনের নয় বলে মোবাইলে নিশ্চিত করে প্রবাসী মোমিন বলেন, ইতোপূর্বে তার স্ত্রীর স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সাথে অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত হন। কিন্তু দুটি সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে সে স্ত্রীকে ক্ষমা করে দিয়ে তার সাথে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন।

এবার এই সন্তানের কথা না জানিয়ে গোপনে হাসপাতালে ভর্তি হয় তার স্ত্রী রিনি এবং সন্তান প্রসবের পর হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আসার পর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত হন। এ ছাড়াও সে অন্য সমস্যার কারন দেখিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিল বলে নিশ্চিত করেন মোমিনের মা।

এ ঘটনার পর ওই প্রবাসীর স্ত্রী ও স্থানীয় কয়েকজন যুবককে নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক মাহফুজুর রহমান বলেন, ওই নারী জরুরি বিভাগে আসার পর ঠিকমতো তথ্য দেননি। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ওই নারী যে ঠিকানা ব্যবহার করেছেন, সেটি ভুয়া। ভুল ঠিকানা দিয়ে হাসপাতালে আসেন তিনি। শিশুটিকে বর্তমানে হাসপাতালের নবজাতকদের বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্রে (স্ক্যানু) ওয়ার্ডের ৫ নম্বর শয্যায় রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওই ওয়ার্ডে গিয়ে নবজাতকটিকে স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে দেখা গেছে। ওয়ার্ডের নার্সরা তাকে যত্নে রেখেছেন।

দায়িত্বরত জ্যেষ্ঠ নার্স ফাতেমা নাজনীন বলেন, ‘আমার ৯ মাসের বাচ্চা আছে। বাড়ি থেকে একটি ফিডার নিয়ে এসেছি। নিজের সন্তানের মতো বাচ্চাটিকে সময়মতো দুধ খাওয়ানো হচ্ছে।’

আরেক জ্যেষ্ঠ নার্স সরবী খাতুন বলেন, ‘সকালে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মোমেন শিশুটিকে দেখতে আসেন। তিনি ছেলে শিশুটির নাম রেখেছেন মোহাম্মদ আলী। শিশুটির ওজন তিন কেজি। শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ। যেহেতু তার কোনো অভিভাবক নেই। তাই স্ক্যানু ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত শিশুটির মা আসেননি।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মুরাদ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরির পর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডে নেওয়া হবে। নবজাতককে হাসপাতাল ছাড়পত্র দিলে তাকে খুলনায় শিশু হোমে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, যদি কোনো নিঃসন্তান দম্পতি শিশুটিকে নিতে চান, তবে শিশু কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করতে পারে। যাচাই–বাছাই করে আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে কয়েকটি পরিবার শিশুটিকে নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরো সংবাদ পড়ুন
জনতা মাল্টিমিডিয়া© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট