1. abusayedatnkh@gmail.com : Abu Sayed : Abu Sayed
  2. info@jtv.com.bd : TV :
বুধবার, ২৩ নভেম্বর ২০২২, ০১:৩০ অপরাহ্ন

‘মরিয়ম প্রভাবশালী, বিভিন্নজনের সঙ্গে আছে সম্পর্ক’

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

২৯ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর উদ্ধার হওয়া খুলনার মহেশ্বরপাশা এলাকার গৃহবধূ রহিমা বেগমের মেয়ে মরিয়ম মান্নানকে নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। মাকে ফিরে পেতে তার কান্নকাটির ছবির সঙ্গে আরও কিছু ছবি এখন ভাসছে সামাজিক মাধ্যমে।  

এরমধ্যে মরিয়মকে নিয়ে উঠেছে আরেক অভিযোগ। মরিয়ম মান্নান নাকি প্রভাবশালী, ঢাকায় তার আছে বিভিন্নজনের সঙ্গে সম্পর্ক!

এ অভিযোগ তুলেছেন রাহিমা বেগম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি ফুলবাড়িগেট এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী হেলাল শরীফের স্ত্রী মনিরা আক্তার। হেলাল শরীফ গ্রেফতার আছেন।

মনিরা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, তার স্বামী হেলাল বিনা অপরাধে গত ২৮ দিন ধরে জেল খাটছেন। গত ৩০ আগস্ট হেলালকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আগামী অক্টোবরে মনিরার সন্তান প্রসবের কথা থাকলেও স্বামীর দুশ্চিন্তায় গত ৬ সেপ্টেম্বর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। সে পরিস্থিতিতে স্বামীকে পাশে পাওয়া মরিয়ম মান্নানের জন্য হয়নি বলে দাবি তার।

মনিরা আরও বলেন, মরিয়ম খুব প্রভাবশালী। ঢাকার বিভিন্ন লোকের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। তিনি নিজে তার মায়ের নিখোঁজ হওয়ার মতো গর্হিত কাজ করেছে বলে আমি মনে করি। প্রভাবশালী লোক দিয়ে তিনি পুলিশকে প্রভাবিত করে আমার স্বামীকে জেল খাটাচ্ছেন।

তিনি বলেন, মরিয়মের কারণে অপরাধ না করেও আমার স্বামী জেল খাটছেন। এতে আমাদের হয়রানি, অর্থদণ্ড ও মানহানি হয়েছে। আমরা নিশ্চিত, গ্রেফতার হওয়া কেউই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। মনিরা আশা করছেন দ্রুত তার স্বামী জেল থেকে ছাড়া পাবেন। অন্যথায় তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন।

কে এই মরিয়ম মান্নান?
বর্তমানে মরিয়ম মান্নান একজন নারীবাদী নেত্রী। তিনি একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। ২০১২ সালে তার বাবা আব্দুল মান্নানের মৃত্যু হয়। এ সময় এসএসসি পরীক্ষা দেন তিনি। পাস করার পরে চলে আসেন ঢাকায়।

ঢাকা আসার বেশ কিছুদিন পর তিনি বিয়ে করেন এক ডেন্টাল চিকিৎসককে। পরে তাকে ছেড়ে আরেকটি বিয়ে করেন বরিশাল জেলায়। তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে আপনজনরা তেমন কিছুই জানেন না। ঢাকার অভিজাত একটি এলাকায় দুই-তিনটি নারী হোস্টেল খুলে ব্যবসা করছেন। সেখানে অবাধে নারী-পুরুষের যাতায়াত রয়েছে। একটি অসমর্থিত সূত্রে এমনটি দাবি করেছে।

মরিয়ম নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তিনি তেজগাঁও কলেজের ছাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।

চার বছর আগেও কোটা আন্দোলনে পুলিশি হেফাজতে নিজের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে লাইমলাইট পেয়েছিলেন মরিয়ম মান্নান। শারীরিকভাবে তাকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ভাইরাল হন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পোস্ট ছবি ভিডিও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করে।

সে সময় তেজগাঁও কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন মরিয়ম মান্নান। একটি ভিডিওতে দেখা যায়- কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহীদ মিনারে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। কয়েকজন সাংবাদিক তার সঙ্গে কথা বলতে আসেন। উত্তেজিত অবস্থায় তখন সাংবাদিকদের বলেন, আপনার জানতে চান ওই দিন তারা আমার কোথায় কোথায় হাত দিয়েছিল? কি বলেছিল? আপনাদের শুনতে ইচ্ছে করছে, আমার কোথায় কোথায় ধরেছে? আমাকে কীভাবে কী করেছে? সবাই আমাকে ফোন দিচ্ছে, তোমাকে কী করেছে? এখন আমি লাইভে যাব? লাইভে গিয়ে বলব আমাকে কী করেছে? কেমন করে ধরেছে? আমি কান্না করব আর সবাই আমাকে সহানুভূতি দেখাবে?

রহিমা বেগমকে উদ্ধারের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মরিয়ম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে এক এক সময় এক এক রকম মন্তব্য করেন। এ ঘটনায় আমরা বিব্রত। মা হারিয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবে যে কেউ একটু রিয়্যাক্ট করেন। এটাকে আমরা স্বাভাবিকভাবে দেখতে চাই। নিশ্চয়ই তিনি (মরিয়ম মান্নান) এখন কোনো পোস্ট দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করবেন এবং উনার ভুল উনি স্বীকার করবেন।

মাকে পাওয়ার পর যা বললেন মরিয়ম
রহিমা বেগমকে উদ্ধারের পর খুলনা পিবিআই কার্যালয়ে আসেন মরিয়ম। সেখান তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেন। এ সময় বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয় তাকে। কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তর তিনি দেননি। তিনি বলেন, আমার মাকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়েছি এটাই বড় কথা। এর চেয়ে বেশি কিছু হতে পারে না। আমি আমার মাকে দেখেছি। এখন তার কাছে যেতে চাই।

এ ঘটনায় নিরপরাধ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কেন মামলা দেওয়া হলো প্রশ্ন করলে মরিয়ম বলেন, তারা আমাদের পরিবারকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়েছেন, নির্যাতন করেছেন। সেই সন্দেহের যায়গা থেকে তাদের নামে মামলা করা হয়।

সূত্র-বাংলানিউজ২৪

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরো সংবাদ পড়ুন
জনতা মাল্টিমিডিয়া© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট